বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যারা স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের হাতে দেশ কখনোই নিরাপদ থাকতে পারে না।” তিনি বলেন, বিএনপি একটি শান্তিপূর্ণ ও সমঅধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে হিন্দু-মুসলমানসহ সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ নির্বিঘ্নে বসবাস করবে।
রবিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকায় তোজামুলের চাতালে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি পথসভায় ভগিরথ বর্মনের সভাপতিত্বে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তারা মূলত দেশের ক্ষতি করতে চায়। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাই, তাহলে আমাদের কেউ দমাতে পারবে না। কিন্তু হিন্দু-মুসলমান ভাগ করলে দেশের অগ্রগতি থেমে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “গত ২৪ বছরে যাদের কোনো দল ছিল না, এখন তাদের নতুন দল ও নতুন বাড়ি হয়েছে। কিন্তু আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিরাপদে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনী আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”
নিজের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি জোর গলায় বলতে চাই—আপনাদের আমানত হিসেবে দেওয়া ভোটের দায়িত্ব আমি নেব এবং কখনোই খেয়ানত করব না।”
বিএনপি ক্ষমতায় এলে কর্মসংস্থান ও কৃষিখাতে বড় উদ্যোগ নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠন করলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি মায়েদের কৃষি সহায়তা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও ঘোষণা দেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে এবং এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করবে।
রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, “দায়িত্বশীল পদে থাকার সময় আমি সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। উন্নত ও সমান অধিকারের বাংলাদেশ গড়তে চাইলে সবাইকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।”
তিনি নির্বাচিত হলে এলাকায় সড়ক, ব্রিজ, কালভার্ট, মসজিদ ও মাদ্রাসাসহ সার্বিক উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং বলেন, “আমরা যতটুকু পারি, প্রতিশ্রুতি রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”
এসময় আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রেজাউল বারী রেজু এবং ইউনিয়ন সম্পাদক জালাল উদ্দিন।